ঘর কাকে বলে?
ঘরে তাকে বলে যেখানে দু’দণ্ড শান্তি আছে। যেখানে আরাম করে পায়ের জায়গায় হাত আর হাতের জায়গায় পা রেখে পড়ে থাকলেও কোন চিন্তা থাকে না। যেখানে কেউ কেজিদরে আমার প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি হিসেব করে না। যেখানে আমি ও আমার এক। এমন জায়গা আছে? আছে বইকি। আছে তাই তো আছি। সে ঘর কোথায়? সে কি আর এক জায়গায়? কত জায়গায় সে ঘর আমার ছড়ানো। তার কোনোটায় ছাদ আছে কিন্তু দেওয়াল নেই। কোথাও আবার দেওয়াল আছে ঠিক এস্কিমোদের ইগলুর মত স্বচ্ছ। উষ্ণতা আর উদাসীনতা সেখানে হাত ধরাধরি করে চলে। কোথাও আবার তার চেহারাটা ঠিক ইঁট-কাঠ পাথরের ইমারতের মতই বটে। কিন্তু তার ভেতরে একটা আস্ত লবটুলিয়া বইহার যেন বসে আছে গোলগোলি ফুলে ভরা প্রান্তর নিয়ে। কখনো সে ঘর একটি গলার স্বর, একটি চোখের বাঙময় ভরসা, কখনো বা গভীর রাতে মনের পাতাল থেকে উঠে আসা এককলি সুর, বেলি ফুলের সুদূর সুবাসের মত। ঘর তাকেই বলি যা আমাকে ধরে রাখে এখানে। মায়ায়, মমতায় আর হেমন্তের শিশিরকণায়।
Leave a Reply